জাতীয় হৃদরোগে বিরল অস্ত্রোপচার: বেঁচে আছেন সেই ট্রাক চালক

জাতীয় হৃদরোগে বিরল অস্ত্রোপচার: বেঁচে আছেন সেই ট্রাক চালক

রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে (এনআইসিভিডি) এক বিরল ও জটিল কার্ডিয়াক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে রংপুরের পীরগঞ্জের এক ট্রাকচালককে। চিকিৎসকদের দক্ষতা, দ্রুত সিদ্ধান্ত ও মানবিক উদ্যোগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে হাসপাতালটির কার্ডিয়াক সার্জারি টিম।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৪২ বছর বয়সী ফারুক মিয়া গত ২০ মার্চ ভোর সাড়ে ৪টার দিকে সাভারের বরইতোলা এলাকায় ছিনতাইকারীদের হামলার শিকার হন। এ সময় দুর্বৃত্তরা তার বাম বুকে ছুরিকাঘাত করে ট্রাকটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তার অবস্থার অবনতি দেখে দ্রুত জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে রাত সাড়ে ১০টার দিকে গুরুতর আহত ওই রোগীকে কার্ডিয়াক আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। তখন তার রক্তচাপ প্রায় অদৃশ্য, শরীরে জ্বর, কিডনির কার্যকারিতা হ্রাস এবং হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ দেখা যায়। চিকিৎসকরা প্রাথমিকভাবে ওষুধ ও তরল প্রয়োগের মাধ্যমে তার অবস্থা সাময়িকভাবে স্থিতিশীল করার চেষ্টা করেন।

এদিকে ঈদের ছুটিকে সামনে রেখে সংকটময় মুহূর্তে জরুরি ভূমিকা রাখার জন্য হাসপাতালের পরিচালক, বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আবদুল ওয়াদুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে আগে থেকেই একটি জরুরি টিম প্রস্তুত ছিল। ওই টিম রোগীকে পর্যালোচনা করে প্রাইমারি জরুরী চিকিৎসা দেন।

সেই সময় হাসপাতাল পরিদর্শনে আসেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. সুমন নাজমুল হোসেন, যিনি নিজেও একজন দক্ষ কার্ডিয়াক সার্জন। রোগীর অবস্থা জেনে তিনি দ্রুত আইসিইউতে গিয়ে রোগীকে দেখেন এবং চিকিৎসা পরিকল্পনা নির্ধারণ করে দেন। তার নির্দেশ ছিল—যখনই রোগীর অবস্থা সামান্য স্থিতিশীল হবে, তখনই অপারেশনে যেতে হবে। কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুত খারাপের দিকে যেতে থাকে।

শেষ চেষ্টা হিসেবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়—জরুরি ভিত্তিতে অপারেশন করতে হবে। অপারেশন থিয়েটারে অধ্যাপক ডা. সঞ্জয় কুমার রাহা ও তার টিম, অ্যানেসথেটিস্ট, পারফিউশনিস্ট, নার্স ও টেকনিশিয়ান—সবাই মিলে একটি জীবন বাঁচানোর লড়াইয়ে যুক্ত হন। অপারেশনের সময় দেখা যায়, হৃদপিণ্ডের চারপাশে (পেরিকার্ডিয়াল ক্যাভিটি) রক্ত জমে আছে এবং ছুরিকাঘাতে হৃদপিণ্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধমনী—LAD (Left Anterior Descending artery)—মাঝামাঝি অংশে সম্পূর্ণ কেটে গেছে। এটি ছিল প্রাণঘাতী আঘাত।

চিকিৎসকরা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে জমাট রক্ত পরিষ্কার করেন, ক্ষতস্থান মেরামত করেন এবং পরে LIMA to LAD পদ্ধতিতে একটি বাইপাস সার্জারি (CABG) সম্পন্ন করেন। বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা—টানা প্রায় ছয় ঘণ্টার নিরলস প্রচেষ্টার পর অবশেষে সফলভাবে অপারেশন সম্পন্ন হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে এবং রোগীকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানান, এমন জটিল হৃদযন্ত্রের আঘাতে রোগীকে জীবিত ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। তবে সময়মতো সিদ্ধান্ত, দক্ষ টিমওয়ার্ক এবং প্রস্তুতিই এ সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।

এস্থেটিক প্লাস্টিক সার্জনদের পেশাজীবী সংগঠন বিএসএপিএসের নতুন কমিটি গঠন পরবর্তী

এস্থেটিক প্লাস্টিক সার্জনদের পেশাজীবী সংগঠন বিএসএপিএসের নতুন কমিটি গঠন

কমেন্ট