আরও ৫০০ কমিউনিটি ক্লিনিকের জন্য জমি খোঁজা হচ্ছে

আরও ৫০০ কমিউনিটি ক্লিনিকের জন্য জমি খোঁজা হচ্ছে

গত ৫৩ বছরের ইতিহাসে স্বাস্থ্য খাতের সবচেয়ে যুগান্তকারী সংস্কার হলো ওয়ার্ড লেভেলে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন। দেশে বর্তমানে চালু আছে ১৪ হাজার ৪৬৭টি কমিউনিটি ক্লিনিক। প্রতিটি ক্লিনিকে দৈনিক গড়ে ৩৫ জন মানুষ সেবা নিতে আসেন। সে হিসাবে দৈনিক পাঁচ লাখ মানুষকে স্বাস্থ্য সেবা দেয়া হচ্ছে। এখান থেকে ২২ ধরনের ওষুধ বিনা মূল্যে দেওয়া হচ্ছে রোগীদের। 

আশার কথা যে, দেশে নতুন করে আরও অন্তত ৫০০ কমিউনিটি ক্লিনিক তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকার অর্থায়নে এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে উঠবে।

বুধবার (২০ আগস্ট) মহাখালীস্থ কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টের সভাকক্ষে আয়োজিত ‘প্রান্তিক স্বাস্থ্য সেবায় মিডিয়ার অংশগ্রহণ’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আক্তারুজ্জামান।

তিনি আরো বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা ৫ হাজার ৮০টি কমিউনিটি ক্লিনিক মেরামত ও পুনঃস্থাপন করা হবে। নতুন ক্লিনিকের জমির জন্য এই মুহূর্তে আমরা দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আবেদন নিচ্ছি। যারা জমি দিতে আগ্রহী, তারা যদি নোটারি করা ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে অঙ্গীকার করেন, আমরা সেই আবেদন অগ্রাধিকার দিয়ে লিস্ট করছি। জমি পাওয়া গেলে দ্রুত সেই এলাকায় নতুন কমিউনিটি ক্লিনিক গড়ে তোলা হবে। সব মিলিয়ে আমাদের সামনে একটা বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে, যার মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও স্বাস্থ্যসেবার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

তিনি জানান, কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও ইতোমধ্যে ইডিসিএল থেকে ১২০ কোটি টাকার ওষুধ কেনা হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই এসব ওষুধ সব কমিউনিটি ক্লিনিকে পৌঁছে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। আরও ২০০ কোটি টাকার ওষুধ দ্রুত কেনা হবে। 

স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে মো. আখতারুজ্জামান বলেন, দেশের ৭২ শতাংশ মানুষ মনে করে, জনস্বাস্থ্যসেবার জন্য আলাদা ফ্যাসিলিটি থাকা উচিত। এই ক্ষেত্রে কমিউনিটি ক্লিনিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ হওয়া বা নাম পরিবর্তন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘এটি সরকারের মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের বিষয়।’

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টের পরিচালক (মাঠ প্রশাসন) আসিফ মাহমুদ, জাইকার প্রতিনিধি এস এম রেজাউল ইসলাম, বিশ্বব্যাংকের পুষ্টিবিষয়ক কর্মকর্তা মো. ফেরদৌস হোসেন, সিএইচসিপি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে বর্তমানে ১৪ হাজার ৪৬৭টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। প্রতিটি ক্লিনিকে একজন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারের (সিএইচসিপি) পাশাপাশি স্বাস্থ্য সহকারী ও পরিবার পরিকল্পনা সহকারী সপ্তাহে দুই দিন সেবা দিয়ে থাকেন। প্রতিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম পরিচালিত হয় ১৩ থেকে ১৭ সদস্যবিশিষ্ট কমিউনিটি গ্রুপের মাধ্যমে। বর্তমানে দেশে সিএইচসিপির সংখ্যা ১৩ হাজার ৯২৩ জন।

 

আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজনের মাধ্যমে এসএসএলটির অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন  পরবর্তী

আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজনের মাধ্যমে এসএসএলটির অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন 

কমেন্ট